চোখের সামনে লোভের আয়োজন

কলকাতার একটি টক শো দেখছিলাম কিছুদিন আগে। সেখানে এক বক্তা বলছিলেন – কেন কলকাতাবাসী এখন সুখ হারাচ্ছে। কেন তারা শান্তিতে নেই। তার মতে, সুখে থাকার উপায় হল চাহিদা কম থাকা। তো ইন্ডিয়ান মধ্যবিত্ত/নিম্ন মধ্যবিত্ত বাঙালি বাজারে গিয়ে মুরগি ১ কেজি নয় হয়ত ৮ পিস অথবা / ৩০০ গ্রাম হিসেবে কেনে। ১ বেলা মাছ খেয়ে ১ বেলা রুটি-সব্জি খায়। এরা আগে ব্রান্ড চিনত কিন্তু টিভিতে। তারা টিভিতে দেখত ডেনিম জিন্স হয়, গুচি ব্যাগ হয়। সেগুলা দেখতে সুন্দর। কিন্তু সামনে থেকে না দেখে টিভিতে দেখার জন্য লোভ সংবরণ করতে পারে সে। হতাশা জাগে না। দেখে আবার ভুলে যায়। কিন্তু বর্তমান যুগে শপিং মল হওয়ার জন্য বাঙালি সেখানে ঘুরতে যায়। সামনে থেকে এখন সে জামদানী শাড়ি, ডিজাইনার সালোয়ার দেখে। তার চোখ ধাধিয়ে যায়, কত নরম কাপড়!! এত নরম কাপড় সে আগে ছুঁয়ে দেখেনি। লোভ জন্মায়। চাহিদা বাড়ে। অযথা অতিরিক্ত সামর্থ্যের বাইরে এই চাহিদাই তৈরি করে হতাশা।

ব্যাপারটা ভাবছিলাম অন্য কারণে। ফেসবুকে দয়াল বাবাদের ভিডিও সামনে এসেছিল। দয়াল বাবা কারা? ওই যে BMW গাড়ি থেকে নেমে একটি গরীব ছেলেকে ডেকে পিজ্জা হাটে পিজ্জা খাইয়ে ভিডিও বানায় যারা। কিংবা ১০ টা বাচ্চাকে বার্গার খাইয়ে YouTube এ ছেড়ে মানবতা দিয়ে ভাসিয়ে দেয়। প্রশ্ন হচ্ছে – পান্তা ভাত এবং কাচা মরিচ খাওয়া পেটে কি এগুলা সহ্য হয়? একদিনের এই মানবতা কি ওর হতাশা বাড়িয়ে দেবে না ? এটা কি আসলেই মানবতার মধ্যে পরে!! হয়ত পরে, হয়ত পরেনা। ব্যাপারটা আপেক্ষিক। যদি সেই দরিদ্র লোকটি/বাচ্চাটি খেয়ে শান্তি পায়, সখ পূরণ হয় তবে মানবতা। কিন্তু যদি তার হতাশা বাড়ে, সে ভুলতে না পারে, হতাশা জন্মায়, তবে ফাপরবাজী।

সিমিলার কেস আরও একটি আছে। আমি আমার ফোনে করার কিছু পাইনা ছবি তোলা, ইন্সটগ্রাম, ফেসবুক, এবং ৩ টি ইম্পরট্যান্ট সফটওয়্যার ব্যবহার ছাড়া। এগুলি আমার বর্তমান ফোন দিয়েই হয়ে যাচ্ছে। তাই ঠিক করেছি নষ্ট না হলে কিংবা ভেঙে না ফেললে ২০২৩ এর আগে পাল্টাবোনা। পার্টস চেঞ্জ করব শুধু। কিন্তু প্রতিদিন ফেসবুকের একটা গ্রুপ থেকে ফোনের অ্যাড আসে সামনে। দেখে মনের ভেতর উশখুশ শুরু হয়। আরে এটা তো বাজেটে আছে। আমি তো কিনতে পারি। দেখি তো ফিচার কি! দেখি তো ব্যাটারি ব্যাকাপ কত। অথচ কোনও দরকার নেই আমার। শেষ মুহূর্তে হুশ ফেরে বলেই এখনও কিনে বসিনি। কিন্তু এটা আমার মনে হতাশা তৈরি করত না যদিনা আমার সামনে প্রতিদিন আসত। (লোভের কারণে আনফলো করতে পারছিনা) এভাবেই প্রতিদিন শাড়ির লাইভ, গেঞ্জির অ্যাড জীবনকে হতাশাগ্রস্ত করে তুলছে। আলমারিতে এমন জামা পরে আছে যা ১ বছর পরা হয়নি তারপরও নতুন কিছু কিনতে ইচ্ছা জাগে। জীবন অস্থির করে তুলছে এই বেশি উন্নয়ন, বেশি কানেক্টিভিটি কিংবা ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড।

অতনু সোম,
সিএসই,
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।